সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা: পৃথক ঘটনায় শিশুসহ চার জনের মৃতদেহ উদ্ধার

জিকির উল্লাহ জিকু:
কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। আজ সকালে পৃথক ঘটনায় পেকুয়া ও চকরিয়া থেকে শিশুসহ চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজারে ৬০ টি ইউনিয়নে ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলা প্রশাসন প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ফেরাংগি পাড়া এলাকা থেকে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ দুই শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলো উজানটিয়া ইউনিয়নের ওই গ্রামের নুরুল আলমের মেয়ে তাহিদা বেগম (১০) ও আমির হোসেন (৫) এবং একই এলাকার সাবের আহমদের মেয়ে হুমায়রা বেগম (৮)।  উদ্ধার হওয়া শিশুরা গতকাল মঙ্গলবার সকালে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ ছিল। এছাড়া চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীত বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান জানিয়েছেন, বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখনো নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে বন্যার পুর্নাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা যাবে।

এদিকে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘বন্যার পানিতে’ ব্যবহার অনুপযোগী সেফটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে গিয়ে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় পিতা সহ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার রাত ১১ টায় চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান চকরিয়া থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ।

মৃতরা হল- চকরিয়ার বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা এলাকার আনোয়ার হোসেন (৭৮) ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৫০) এবং তার ভাই শহীদুল ইসলাম (২২)।

ওসি জাবেদ মাহমুদ জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণে উজানের ঢলে চকরিয়ার নিন্মাজ্ঞল প্লাবিত হয়েছে। এতে চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের বসত ভিটাও বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তার বাড়ীর সেফটিক ট্যাংকটিতে পানি ঢুকে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বুধবার রাতে বসত ভিটা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে সেফটিক ট্যাংকটি পরিস্কার করতে নামেন। এতে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ট্যাংকের ভিতরে দুই ভাই অবচেতন হয়ে পড়ে। এসময় উদ্ধার করতে নেমে তাদের বাবাও অসুস্থ হয়ে পড়েন।  পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে সে মারা যায়। এ নিয়ে বন্যায় এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ৫দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা কক্সবাজারে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি আরও হয়েছে। বুধবার রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় বাসা-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নিচু এলাকায় অবস্থিত কিছু কিছু বাড়িঘর ও এলাকা ডুবে রয়েছে। দূর্গত এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে। ফসলী মাঠ ও সড়ক জনপদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়-ক্ষতি পরিমাণ এখনও নিরুপন করেনি। বন্যার পানি অধিকাংশ এলাকার নেমে আসায় দূর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) বিভীষন কান্তি দাশ জানিয়েছেন, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ৬০টি ইউনিয়নে ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভূমি ধ্বস ও পানিত ডুবে মারা গেছে ১২ জন। বন্যা দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৯ লাখ নগদ টাকা ও ৮৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, চকরিয়া উপজেলার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, হারবাং, পুর্ববড় ভেওলা, বিএমচর, পশ্চিম বড়ো ভেওলা, চিরিঙ্গা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, ফাসিয়াখালী চকরিয়া পৌরসভা, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন রামু উপজেলার গর্জনিয়া কচ্ছপিয়া কাউয়ার রাজারকুল ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION